Wednesday March 2026

হটলাইন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৪:২৯ PM

জেলা তথ্য অফিস, মাদারীপুরের আয়োজনে "এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই" শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ২৭-১১-২০২৫ আর্কাইভ তারিখ: ১৮-০১-২০৩০

জেলা তথ্য অফিস, মাদারীপুরের আয়োজনে "এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই" শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

তারিখঃ ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি.


তারুণ্য নির্ভর এক নতুন, উন্নত ও নৈতিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাদারীপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে আজ (২৭ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি.) সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনের কনফারেন্স রুমে “তারুণ্যনির্ভর নতুন বাংলাদেশ গঠনে—এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভাটি সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইমাম, মুয়াজ্জিন, গণমাধ্যম কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। আলোচনা সভার প্রধান অতিথি গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, ঢাকা-এর মহাপরিচালক জনাব মোঃ আবদুল জলিল-এর ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, তাঁর শ্বাশুড়ির আকস্মিক ইন্তেকালের কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। সভার শুরুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মাদারীপুর, জনাব মোঃ আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন তথ্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), মাদারীপুর, জনাব মোঃ বেনজীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, মাদারীপুর, জনাব জোবায়ের মিথুন; জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, মাদারীপুর, জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম মুন্সী এবং উপ-পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাদারীপুর, জনাব মোঃ আশেকুজ্জামান। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে, যেখানে তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি হতে পারে। তারা সৎ, নৈতিক, প্রযুক্তি-দক্ষ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা বলেন, দেশের এই তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি হতে পারে, যদি তারা সৎ, নৈতিক, দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং দায়িত্বশীল হয়। বক্তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর জোরালো তাগিদ দেন: ১. নৈতিকতার দুর্গ নির্মাণ: বক্তারা উল্লেখ করেন, শুধু আধুনিক জ্ঞানার্জন যথেষ্ট নয়। প্রতিটি তরুণের চরিত্র গঠনে ইসলামিক মূল্যবোধ, সততা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে স্থাপন করতে হবে। বক্তারা বলেন, নীতিহীন দক্ষতা সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তাই নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। ২. প্রযুক্তির নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: ভবিষ্যতের অর্থনীতি নির্ভর করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স ও সফটওয়্যার দক্ষতার ওপর। তরুণদের এখন থেকেই এই ক্ষেত্রগুলোতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উদ্ভাবনী ক্ষেত্রগুলোতে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে হবে। ৩. সামাজিক ব্যাধির মূলোৎপাটন: দেশের সকল উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে বক্তারা মাদকাসক্তি, গুজব, সাইবার অপব্যবহার, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাস-এর মতো সামাজিক ব্যাধিগুলোকে চিহ্নিত করেন। বক্তারা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, শক্তিশালী ও সৎ যুব নেতৃত্বের মাধ্যমেই এই সকল সামাজিক ব্যাধিকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব। ৪. ইতিবাচক চেতনার বিস্তার: আলোচনায় বক্তারা তরুণদের মধ্যে গুজব নয়- সত্য, বিভাজন নয়- সম্প্রীতি, এবং নেতিবাচকতা নয়- উন্নয়নচিন্তার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইন মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব নতুন বাংলাদেশ গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, তারা আর দর্শকের ভূমিকায় থাকতে আগ্রহী নন। তারা সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং নৈতিকতার সমন্বয়ে গঠিত দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তারা অঙ্গীকার করেন, তাদের সততা, মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রায় তারা অগ্রণী কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করবেন। আলোচনা সভার সারমর্ম হিসেবে সকল বক্তা একমত হন যে, এই বিশাল তরুণ শক্তিকে সৎ, প্রযুক্তিনির্ভর ও মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তারুণ্যই জাতির ভবিষ্যৎ। তরুণদের সুশিক্ষা, দক্ষতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ফাইল ১
ফাইল ২
ফাইল ৩

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন